কেন হয় ‘বুড়ো বয়সে ভীমরতি’?


বুড়ো বয়সে ভীমরতি’ বা ডিমেনশিয়া (Dementia) হলো এক ধরনের মানসিক অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন স্মৃতি, চিন্তা, বোধশক্তি বা মানসিক ক্ষমতা কমে যায়। এটি মূলত প্রবীণ বয়সে ঘটে থাকে এবং প্রাথমিকভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। এই অবস্থায় রোগী সাধারণত কিছু বিষয় ভুলে যায়, মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়, এবং তার চিন্তা-ধারা আগের মতো পরিষ্কার থাকে না।

কেন হয় ‘বুড়ো বয়সে ভীমরতি’?

বুড়ো বয়সে ভীমরতির কিছু প্রধান কারণ হলো:

  1. বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কের অবক্ষয়:
    বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, যা স্নায়ুর সংকেত প্রেরণ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। এতে করে চিন্তাশক্তি ও স্মৃতি দুর্বল হতে পারে।

  2. অ্যালঝাইমার রোগ:
    অ্যালঝাইমার একটি নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ যা প্রাথমিকভাবে স্মৃতি, চিন্তা এবং আচরণে সমস্যা সৃষ্টি করে। এটি ভীমরতির একটি প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সের পর এটি দেখা দেয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি তার আগেও শুরু হতে পারে।

  3. গবেষণা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা:
    দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত জীবনযাত্রা (অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, অ্যালকোহল বা মাদকের অতিরিক্ত ব্যবহার) মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং মানসিক অবক্ষয় ঘটাতে পারে।

  4. রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল:
    এই ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা মস্তিষ্কের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

  5. মস্তিষ্কের আঘাত:
    পূর্বে মস্তিষ্কে আঘাত পেলে (যেমন দুর্ঘটনার কারণে) পরবর্তীতে ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।


ঠিক কোন বয়সে হয়?

বুড়ো বয়সে ভীমরতি বা ডিমেনশিয়া সাধারণত ৬৫ বছরের পর দেখা দেয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি আগেও শুরু হতে পারে, বিশেষ করে যদি জেনেটিক বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ থাকে।

ডিমেনশিয়ার একাধিক ধরণ আছে, এবং এর প্রভাবও বয়সের সাথে বাড়তে থাকে। অ্যালঝাইমার রোগ এবং অন্যান্য নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ ৬৫-৭০ বছর বয়সের পর সাধারণত বৃদ্ধি পায়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি তরুণ বয়সে (৪০-৫০ বছর) শুরু হতে পারে, যাকে প্রীমেচিউর ডিমেনশিয়া বলা হয়।


কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

ডিমেনশিয়া বা ‘ভীমরতি’ রোধে কিছু পরামর্শ দেয়া যেতে পারে:

  1. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন:
    নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক কার্যক্রম (যেমন বই পড়া, পাজল খেলা) স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  2. মস্তিষ্কের চর্চা:
    নিয়মিত চিন্তা-চর্চা, নতুন কিছু শেখা, এবং সৃজনশীল কাজ (যেমন আঁকা বা লেখা) মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

  3. বিষণ্নতা বা স্ট্রেস কমানো:
    মানসিক চাপ বা বিষণ্নতা যদি দীর্ঘকাল থাকে, তা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাই চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

  4. স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মনোযোগ:
    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

বুড়ো বয়সে ভীমরতি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়, তবে এটি বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত একটি রোগ। সঠিক যত্ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের উন্নতির মাধ্যমে এটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

0 Comments

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post