শীতকালে ঠোঁট ফাটা একটি সাধারণ সমস্যা, তবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে আপনি ঠোঁটকে মসৃণ, নরম ও গোলাপী রাখতে পারেন। ঠোঁট ফাটা প্রতিরোধ করার জন্য কিছু কার্যকরী উপায় নিচে দেওয়া হলো:
১. শুদ্ধ পানি পান করুন
ঠোঁটের ফাটা রোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল শরীরের পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ। শীতকালে অনেকেই কম পানি পান করেন, তবে ঠোঁট ও ত্বক শুকিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ এটি। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন যাতে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
২. পেট্রোলিয়াম জেলি বা লিপ বাম ব্যবহার করুন
পেট্রোলিয়াম জেলি (ভ্যাসলিন) বা ভালো মানের লিপ বাম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখে। শীতকালে রাতে ঘুমানোর আগে এই লিপ বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন। এটি ঠোঁটকে মসৃণ রাখবে এবং ফাটা থেকে রক্ষা করবে।
৩. প্রাকৃতিক মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করুন
মধু একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার এবং অলিভ অয়েল ঠোঁটকে স্যাঁতসেঁতে রাখে। মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন, তারপর আলতো করে মুছে ফেলুন। এটি ঠোঁটের কোষকে পুনঃউজ্জীবিত করবে।
৪. একটি সঠিক স্ক্রাব ব্যবহার করুন
ঠোঁটের মৃত কোষ দূর করতে ঠোঁট স্ক্রাব করুন। খুব সাধারণভাবে, এক চা চামচ শর্করা বা চিনি ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে ঠোঁটে আলতো করে মালিশ করুন। এটি মৃত কোষ ঝেড়ে ফেলে ঠোঁটকে উজ্জ্বল করবে। সপ্তাহে ২-৩ বার এটি করতে পারেন।
৫. ভিটামিন E তেল ব্যবহার করুন
ভিটামিন E তেল ঠোঁটের যত্নে অত্যন্ত কার্যকরী। এটি ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করে, চামড়ার পুনঃনির্মাণে সহায়তা করে এবং ঠোঁটকে নরম রাখে। এক টুকরা ভিটামিন E ক্যাপসুল ফেটে তা ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন।
৬. ঠোঁটে হালকা আলাদা পলিশিং করুন
মাইল্ড ঠোঁট পলিশিং বা ম্যাসেজও ঠোঁটের পুষ্টি প্রদান করে। ঠোঁটের উপরে অলিভ অয়েল বা মধু মাখিয়ে ১-২ মিনিট আলতো করে মালিশ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং ঠোঁটের রঙ উজ্জ্বল হবে।
৭. মাঠে বা বাইরে যাওয়ার সময় লিপ বাম ব্যবহার করুন
শীতের সময় বাইরের ঠাণ্ডা হাওয়া ঠোঁটের ত্বক শুষ্ক ও ফাটা করে তোলে। বাইরে যাওয়ার আগে লিপ বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন, এতে ঠোঁট সুস্থ ও কোমল থাকবে।
৮. শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখুন
শীতকালে ঘরবাড়িতে গরম তাপমাত্রা থাকার কারণে আর্দ্রতা কমে যায়, যা ঠোঁটের শুষ্কতার কারণ হতে পারে। শীতের সময়ে আর্দ্রতা বজায় রাখতে ঘরে একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
৯. সঠিক পুষ্টি খাবেন
ঠোঁটের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো পুষ্টির প্রয়োজন। ভিটামিন C, E, এবং ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ফল, বাদাম, তেল ও স্যামন মাছ খান। এগুলো ঠোঁটের ত্বককে পুষ্টি ও আর্দ্রতা দেয়।
১০. ঠোঁট ফাটলে কিছু না চিবান বা কামড়াবেন না
ঠোঁট ফাটলে অনেকেই তা চিবাতে বা কামড়াতে শুরু করেন, যা ঠোঁটের অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে। ঠোঁট ফাটলে যতটা সম্ভব না চিবানো ও কামড়ানো উচিত।
শীতকালেও আপনার ঠোঁটকে গোলাপি ও মসৃণ রাখতে এই যত্নগুলো অনুসরণ করুন। সঠিক যত্ন ও সচেতনতা ঠোঁটকে সুস্থ রাখবে এবং ফাটা রোধ করবে।
Post a Comment